| ছবি: এম. মনছুর আলম
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ পর্যটন নগরী কক্সবাজার আসছেন। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম কক্সবাজার সফর। দিনব্যাপী ঐতিহাসিক প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও আগমন ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে সাজ সাজরব, ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জনসভার মঞ্চ থেকে শুরু করে সবকিছু প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য জনসভা মঞ্চ, ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন স্থানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনীর কয়েক স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০ টায় তিনি বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছাবেন। দিনের কর্মসূচী হিসেবে শুরুতে জেলার সদর উপজেলার পিএমখালীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খনন করা ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখবেন। এছাড়াও তিনি চকরিয়াস্থ ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, সেখান থেকে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২৪ আন্দোলনের কক্সবাজারের প্রথম শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। পরবর্তীতে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্রাম ও মধ্যভোজ শেষে বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে বিএনপি আয়োজিত রাজনৈতিক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষণ দেবেন। জনসভা শেষে তিনি মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করবেন। এরপর রাত ৮টায় কক্সবাজারে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন এবং রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সরকারের ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার এসে পৌঁছেছেন এবং তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচীর বিভিন্ন স্থানসমূহের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজারে যেসব ৬জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পৌঁছেন তারা হলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক তৎপরতা ও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বধীন জোট সরকারের সময়ে ২০০৪ সালে সর্বশেষ দলের সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব হিসেবে সফর করেছিল। বর্তমান সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে এটিই তাঁর প্রথম সফর। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার আসছেন এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো জেলাজুড়ে নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য কক্সবাজার জেলাবাসী অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর নির্বাচনী এলাকায় প্রধানমন্ত্রী যেসব কর্মসূচী রয়েছে-ডুলাহাজারা সাফারী পার্কে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী, চকরিয়া পৌরবাস টার্মিনালে আয়োজিত জনসভার মাঠ, পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্থান, নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্থানসমূহ পরিদর্শন করেন। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন কর্মকর্তা ও আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তারা সাথে ছিলেন। নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগমন জেলা তথা মাতামুহুরীবাসীর জন্য একটি অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস, আনন্দ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে মাতামুহুরী উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ শিঘ্রই দেখতে পাবেন এলাকার জনগণ। তিনি আরও জানান, মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে পৌর বাসটার্মিনালে জনসভাকে ঘিরে মঞ্চে শনিবার বিকাল থেকে বেশ কয়েকস্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৪টায় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সেখানে তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং স্থানীয় উন্নয়ন বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও দিতে পারেন। কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অহিদুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী আগমন ঘিরে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তাও থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সফরসূচি নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।