| ছবি: এম. মনছুর আলম
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে সপ্তাহে প্রতি শনিবার নিয়মিত ভাবে প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরই আলোকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ সচেতনতা অভিযান পরিচালনা শুরু করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৬জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন আনুষ্ঠানিক ভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসময় হাসপাতাল চত্বর, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, হাসপাতালের কম্পাউন্ডের ভেতরে ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত স্থান এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার পরিচ্ছনতা করা হয়। এছাড়াও হাসপাতালের বিভিন্ন ড্রেনে জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিত্যক্ত পাত্র ও আবর্জনা সরিয়ে ফেলা এবং পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযান চলাকালীন উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: মিসকাত উদ্দিন আহমদ মাহীসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা, কর্মচারী। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন বলেন-হাসপাতালের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রম শুরু করার মূল উদ্দেশ্য হলো ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধ করা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। যাতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেন। বিশেষভাবে সবাইকে সচেতন হওয়ার জন্য বলেন, এডিস প্রজাতির মশা সাধারণত পরিষ্কার পানিতে জন্মায় এবং অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিও মশার বংশবিস্তার ঘটাতে পারে। তাই বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, টায়ার, পানির ট্যাংক, ড্রাম, ফ্রিজের ট্রে, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি জমে থাকা পানি যেন না থাকে-সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান। ডা: মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ করা এবং পরিবার ও প্রতিবেশীদের সচেতন করার মাধ্যমে আমরা সহজেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশ কমিয়ে আনতে পারি। আসুন, আমরা সবাই মিলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি, সচেতনতা বৃদ্ধি করি এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক একটি নিরাপদ, সুস্থ ও ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।