প্রকাশ :: ... | ... | ...

মায়ের মৃত্যু:যুগ্ম সচিব ছেলে প্রত্যাহার


সংযুক্ত ছবি

রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসায় ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মর্মান্তিক মৃত্যু ও তাঁর সন্তানদের চরম অবহেলার বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মানবেতর অবস্থায় মৃত্যু হওয়া এই বৃদ্ধার ছেলে এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) এ কে এম আনিসুর রহমানকে তাঁর পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ​আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে তাঁকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আজ থেকেই তিনি ‘স্ট্যান্ড রিলিজড’ (তাৎক্ষণিক অবমুক্ত) হিসেবে গণ্য হবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ​অমানবিকতার চরম চিত্র নূর জাহান বেগম যে ফ্ল্যাটে তাঁর মেয়ের সঙ্গে থাকতেন, সেখানকার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিবেকবান মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফুটেজে দেখা যায়, নূর জাহান বেগমের শয়নকক্ষসহ পুরো ফ্ল্যাটের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁর ডান চোখে ফাঙ্গাস জমে ভয়াবহ অবস্থা দেখা যায়। এমনকি মরদেহে পোকার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলেও নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ​আইনানুগ ব্যবস্থার মুখে ছেলে নিহত নূর জাহান বেগমের অপর দুই সন্তানের মধ্যে একজন বুয়েটের শিক্ষক এবং একজন স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, “পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আছে। এই আইনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওই কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণসহ আইন অনুযায়ী যা যা করণীয়, তার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।” ​আলোচনায় ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ নূর জাহান বেগমের এমন অমানবিক মৃত্যু ২০১৩ সালের ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ ও ২০২৩ সালের এর বিধিমালার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, প্রত্যেক সন্তানকে তাঁদের পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। পিতা-মাতার স্বাস্থ্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সন্তানদের আইনি দায়িত্ব। এই আইন অমান্য করলে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ​ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার মিরপুরের ওই বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীরা গিয়ে কাউকে পাননি। তবে স্থানীয় প্রতিবেশীরা নূর জাহান বেগমের এমন মৃত্যুকে ‘অমানবিক’ ও ‘হৃদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করেছেন। ​বিষয়টি নিয়ে আপনাদের প্রতিক্রিয়া কী? এ ধরনের সামাজিক অবক্ষয় রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ কতটা কার্যকর হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?