শিরোনামঃ

নাইক্ষ্যংছড়ি ১০ গ্রামের মানুষ ভাঙা সেতুতে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পারাপার দুর্ভোগের শেষ নেই

মোহাম্মদ ইলিয়াছ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: মোহাম্মদ ইলিয়াছ
ছবি: মোহাম্মদ ইলিয়াছ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিদ্দিকা পাড়া-বাঁশঝাড় সংযোগ সড়কের একমাত্র কাঠের সেতুটি ভেঙে গিয়ে বর্তমানে এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়েই প্রতিদিন প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবু ছুফিয়া চৌধুরী এই প্রতিবেদককে প্জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কাঠের সেতুটির বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতুর কাঠের তক্তা ও খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় এটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করছেন।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সেতু পার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে পারাপারের সময় দুইজন স্কুলছাত্র নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এলাকার আলম, হোসাইনসহ অনেকেই জানান, শুধু শিক্ষার্থী নয়; কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে উপজেলা সদর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য এই সেতুর ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে সেতুটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

শুক্রবার (১২ জুন) ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পরিদর্শন করেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মাহাবুব এলাহী। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সেতুর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্থায়ীভাবে কিছু মেরামত কাজ করা হলেও তা কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বদিউল আলমসহ অনেকে বলেন, “এটি শুধু একটি সেতু নয়, আমাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে এলাকাবাসী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL