বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের লাচ্ছাইপাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে চাচাতো ভাই মিজানুর রহমানকে ফাঁসাতে নিজের বসতঘর সংলগ্ন পরিত্যক্ত গোয়াল ঘরে নিজেই আগুন লাগিয়ে দিলেন জেঠাত ভাই মনোর আলম প্রকাশ বাদশা।
শুধু তায় নয়, এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনকে বিভ্রান্তির চেষ্টাও করেন তিনি। শনিবার (৬ জুন) দিনগত রাত আটটার দিকে ভুক্তভোগী চাচাতো ভাই মো. মিজানুর রহমান লামা সাংবাদিক ফোরামে আয়োজিত পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
এ সময় ভুক্তভোগীর প্রতিবেশীরাও উপস্থিত ছিলেন। ভুক্তভোগী মো. মিজানুর রহমান রুপসীপাড়া ইউনিয়নের লাচ্ছাই পাড়ার বাসিন্দা মৃত নজির আহমদের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে মো. মিজানুর রহমান উল্লেখ করেন, মো. মিজানুর রহমানের বাবা মৃত নজির আহমদ, জেঠা শব্বির আহমদ ও জেঠাতো ভাই মনোর আলম বাদশার নামে ২৯৪নং দরদরী মৌজার ১২নং খতিয়ানের আন্দর এজমালীভাবে উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের লাচ্ছাইপাড়ায় ৩ একর ১ম ও ৩য় শ্রেণীর জমি তৌজিভূক্ত আছে।
বন্দোবস্তির পর ২০২২ সাল পর্যন্ত মনোর আলম বাদশা ওই জমিতে যায়নি। হঠাৎ মনোর আলম বাদশা ২০২৩ সালে মিজানুর রহমানদের ভোগ দখলীয় জমির ওপর লোভের বশবর্তী হয়ে গাছ কেটে জায়গা জবর দখল করে ঘর নির্মানের চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে জেঠা মৌঃ শব্বির আহমদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জমি পরিচিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইউনিয়ন পরিষদের শুনানীর পর ইউপি সদস্য সীতারঞ্জন বড়–ুয়া’কে জমি পরিচিহ্নিত করার দায়িত্ব দেন।
এক পর্যায়ে ২৫ সেপ্টেম্বর সার্ভেয়ার তিন পক্ষের মালিক ও তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সম্মুখে সরসে-নিরশে জমি সমহারে বন্টন করে বুঝিয়ে দেন। গত দুই বছর ধরে সকলে নিজ নিজ অংশে বিবাদহীন ভাবে ভোগ দখলে স্থীত ছিলেন।
স্থানীয় গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ ও ইউনিয়ন পরিষদের পরামর্শে মিজানুর রহমান লামা উপজেলার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে (সি.আর. মামলা নং-৫৬/২৬) একটি মামলাও দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষিতে মো. মিজানুর রহমানরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, মনোর আলম প্রকাশ বাদশার বসতঘর অক্ষত রয়েছে এবং তাদের বসতঘরের লাগোয়া আলাদা একটি পরিত্যক্ত গোয়াল ঘর পুড়ে গেছে। উপরন্তু বসতঘর ও গোয়ালঘর এতই কাছাকাছি ছিল যে, একটিতে আগুন লাগলে অন্যটি পুড়ে যেত। অথচ তার বসতঘরটি পুড়েনি। এতে প্রতিয়মান হয়, পরিকল্পিতভাবে আমাদের ফাঁসানোর জন্য মনোর আলম বাদশা নিজেই নিজেদের গোয়াল ঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছেন।
তাই মিথ্যা অভিযোগ তুলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি এ ঘটনায় কাউকে বিভ্রান্ত হওয়ার আহবান জানান মিজানুর রহমানরা।