শিরোনামঃ

বৃষ্টির সময়েও প্যারাবনে আগুণ; হুমকির মূখে পরিবেশ

এমকে হামিদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: এমকে হামিদ
ছবি: এমকে হামিদ

বর্ষার শুরুর দিকে বৃষ্টির সময়েও প্যারাবনে আগুণ; হুমকির মূখে পরিবেশ। গেল শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসটি সারাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশ সুরক্ষা রেখে পরিকল্পিত উন্নয়ন পাহাড় কর্তন, গাছ কর্তন রোধে দাবীতে পালিত হলেও দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ কক্সবাজারের মহেশখালীতে যেন ব্যতিক্রমী উদযাপনে লিপ্ত হন প্যারাবনখেকো দুর্বৃত্তকারীরা প্রতাপশালী। এই দিনেই অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাহারা বসিয়ে উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গার পশ্চিমে প্রায় কয়েক শত একর জমির উপকূলীয় প্যারাবন প্রকাশ্যে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। 

‎সচেতনমহল ও সুশীল সমাজের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ইন্ধনে এবং বন বিভাগ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে
‎কুতুবজোমে আমির হোসেন, আয়াত উল্লাহ সিকদার ও ফরিদের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের সিন্ডিকেট দস্যুচক্র কর্তৃক প্যারাবনে আগুন দিয়ে বিরতিহীন নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। 

‎স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে সোস্যাল মিডিয়ায় নেট দুরিয়ায় ভাইরাল করেন। সেখানে উল্লেখ করেন উপকূলীয় 'মহেশখালী দ্বীপের প্যারাবনখেকো দুষ্কৃতকারীরা বর্ষা মৌসুমেও প্রকাশ্যে প্যারাবন পুড়িয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করছে। তা যেন সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদীদের মুখে চুনকালি। 

‎এদিকে পরিবেশকর্মীরা দিবসটি উপলক্ষে মহেশখালীর ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট প্যারাবন রক্ষার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন চলমান তার তোয়াক্কা না করে প্যারাবন নিধন করে চিংড়িঘের তৈরীর মাধ্যমে সরকারি খাসজমি দখল অব্যাহত রেখেছে ক্ষমতাসীন দুষ্কৃতকারীরা।

‎আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)সহ একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সোচ্চার হলেও পরিবেশ বিধ্বস্তকারী ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারীরা রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সাগরকন্যা দ্বীপ রক্ষার একমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট নির্বিচারে রিধনে চিংড়িঘের করছে। কিন্তু প্যারাবন জ্বালানোর দৃশ্যের আশপাশে রয়েছে দুটি বন বিটের কার্যালয়। অভিযোগ উঠেছে, তাদের সঙ্গে অনৈতিকভাবে আঁতাত করে দুষ্কৃতকারীরা এই প্যারাবন পুড়িয়ে ফেলছে। এমনকি স্ক্রেভেটার দিয়ে খনন ও পরিবেশ ধ্বংস করে সরকারি জমি দখলে নিয়ে চিংড়িঘের তৈরি করার ফলে পরিবেশ তথা প্রতিবেশের ব্যাপক ক্ষতি ছাড়াও স্থানীয় মৎস্য আহরণকারীরাও বিপাকে পড়েছে। 
‎এদিকে আঁতাতের কথা অস্বীকার করেছেন স্থানীয় গোরকঘাটা বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মানোয়ার হোসেন। প্যারাবন পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি।' 

‎ধ্বংসযজ্ঞ কর্মকাণ্ডের দৃশ্যও ক্যাপশন করা বিপদজনক যেহেতু সশস্ত্র পাহারা বসিয়ে তারা আগুন দিয়ে প্যারাবন নিধনের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

‎স্থানীয়রা জানায়, প্রভাবশালী, প্যারাবনখেকোরা গত কয়েকদিন হতে আবারো প্যারাবনে আগুন দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। কিছু কিছু এলাকায় হঠাৎ দাউদাউ আগুন জ্বলতে দেখেছে প্রত্যেক্ষদর্শীরা। পরে জানা যায়, চিংড়িঘের করার জন্য প্যারাবনের বাইনগাছ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক সম্পদ কেটে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি তেল ব্যবহার করে  বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আগুন দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়।

‎মহেশখালী দ্বীপের সন্তান ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল হাসেম ও ধরার জেলার সাধারণ সম্পাদক এইচএম ফরিদুল আলম শাহীন প্রতিবেদককে জানান- এসব পরিবেশবিধ্বংসী কাজ প্রতিহত করতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। যেভাবেই হোক নিধনকৃত প্যারাবন পুনরায় সৃজন পূর্বক পরিবেশ অনুকূলে রাখতে হবে।

‎দ্বীপের পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক আব্দুস ছালাম কাকলী বলেন, 'দস্যুরা আজ প্যারাবনে প্রকাশ্যে আগুন দিয়ে পরিবেশ দিবসটি উদযাপন করেছে। এটি আমাদেরসহ প্রশাসনের জন্য লজ্জার।' যেহেতু দস্যুরা এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সহপাঠিদের নিয়ে একাধিকবার সরেজমিনে পরিদর্শন ও প্রতিবেদন করি। তা প্রশাসন বা সরকার বাহাদুরের নজরে পড়েনা।

‎মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, 'আমরা প্যারাবন নিধনকারীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়েছি এবং মামলাও দিয়েছি। আগুণ দেওয়ার বিষয়টি দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL