শিরোনামঃ

বাংলাদেশে ‘হোপনিটি’ নামে ফেসবুকের মতো নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু

মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ
ছবি: মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের মতো বিদেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভিড়ে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ‘হোপনিটি’ (Hopenity) নামের এই প্ল্যাটফর্মটি সাধারণ যোগাযোগের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। 

গত মার্চ মাসে অ্যাপটি উন্মুক্ত করার পর মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে এতে ৪ লক্ষাধিক ব্যবহারকারী নিবন্ধিত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দেশীয় অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘সফটোলিও’ (Softollyo)-এর তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রায়হান সরকার। অ্যাপটিতে সাধারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো ছবি, স্ট্যাটাস ও স্টোরি শেয়ার করার পাশাপাশি রয়েছে ‘দ্য ফিলস’ (The Feels) নামক শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম। তবে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে হোপনিটিকে আলাদা করেছে এর অনন্য সামাজিক উদ্যোগসমূহ।

অ্যাপটির ভেতরেই রয়েছে সরাসরি রক্তদান (Blood Donation), খাদ্য সহায়তা (Food Donation) এবং পুরোনো বা অব্যবহৃত পোশাক অনুদানের (Clothing Help) বিশেষ ফিচার।

ব্যবহারকারীদের সাইবার নিরাপত্তা এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হোপনিটি ব্যবহার করছে নিজস্ব এআই প্রযুক্তি, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হোপ এআই’ (Hope AI)। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মটিতে শেয়ার হওয়া প্রতিটি পোস্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান করে। ফলে কোনো ধরনের সহিংসতা, নগ্নতা বা ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ানোর সুযোগ থাকে না।

এছাড়া অ্যাপটিতে লোকেশন-ভিত্তিক সেবা যুক্ত থাকায়, কোনো এলাকায় জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে আশেপাশের ব্যবহারকারীরা দ্রুত নোটিফিকেশন পেয়ে যান।

বাংলাদেশের নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তবে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ ব্যবহারকারী যুক্ত হওয়ায় প্ল্যাটফর্মটি কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হয়েছে। হঠাৎ অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে সার্ভারে সাময়িক ধীরগতি এবং পোস্ট আপলোডে কিছু জটিলতা দেখা দিলেও কর্তৃপক্ষ দ্রুত সার্ভার আপগ্রেডেশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অ্যাপটির নীতিমালা অনুযায়ী, এটি সরাসরি কোনো মেডিকেল সেবা দেয় না, বরং রক্ত বা স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে।

হোপনিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটিকে কেবল একটি সাধারণ অ্যাপ নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ দেশীয় ডিজিটাল ইকোসিস্টেম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামীতে যোগাযোগকে আরও সহজ করতে ‘হোপচ্যাট’ (Hopechat)-সহ আরও একাধিক আকর্ষণীয় ফিচার যুক্ত করা হবে।

গুগল প্লে-স্টোরে অ্যাপটি অবমুক্ত করার পর থেকেই বাংলাদেশি তরুণদের মাঝে এটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের নিজস্ব ডেটা সুরক্ষা ও মেধা ব্যবহার করে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি আগামী দিনে ফেসবুকের একটি শক্তিশালী ও কল্যাণমুখী বিকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL