শিরোনামঃ

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ফারিকুল বাজার সেতু, দুর্ভোগে তিন ইউনিয়নের মানুষ

শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ
ছবি: শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ

স্বপ্ন ছিল একটি সেতু বদলে দেবে তিন ইউনিয়নের মানুষের জীবনযাত্রা। কমবে যাতায়াতের দূরত্ব, সহজ হবে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজও বাস্তব হয়নি। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ফারিকুল বাজার খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি পাঁচ বছরেও সম্পন্ন না হওয়ায় দুর্ভোগের শেষ নেই পাহাড়তলী, পূর্ব গুজরা ও বাগোয়ান ইউনিয়নের হাজারো মানুষের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু প্রতীক্ষিত এই সেতু নির্মিত হলে তিন ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও দ্রুত হতো। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই তা থেমে যায়। বর্তমানে সেতুর দুই প্রান্তের অবকাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও মাঝখানের অংশ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, দুই পাড়কে যুক্ত করার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে দরপত্র আহ্বানের পর ২০২২ সালের শেষ দিকে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৭ টাকা ব্যয়ে ৪৮ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এ দিদার আলী অ্যান্ড মাজেদা জেবি এন্টারপ্রাইজ’।
প্রথমদিকে নির্মাণকাজ এগিয়ে গেলেও একপর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। গত তিন বছর ধরে প্রকল্পটিতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন কাঠামোর কিছু অংশ খালের পানিতে পড়ে আছে। অন্যদিকে পুরোনো সেতুর একটি অংশ ভেঙে ফেলা হওয়ায় সরাসরি পারাপারও বন্ধ রয়েছে।
এ অবস্থায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাড়ছে দুর্ভোগ ও ঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জয়নাল বলেন, “সেতুর অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম দ্রুত চালু হবে। কিন্তু তিন বছর ধরে কাজ বন্ধ। এখন মানুষের কষ্টের শেষ নেই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি ঝুলে থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও মানুষের ক্ষোভ।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. রাশেদ বলেন, নির্মাণস্থলের মাটি পূর্বনির্ধারিত ডিজাইনের জন্য উপযুক্ত না হওয়ায় নতুন নকশার প্রয়োজন হয়েছে। সংশোধিত ডিজাইন অনুমোদন পেলেই কাজ পুনরায় শুরু করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, “নরম মাটির কারণে আগের ডিজাইন কার্যকর হয়নি। সংশোধিত ডিজাইনের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন—আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? অর্ধসমাপ্ত এই সেতু কবে পূর্ণতা পাবে, কবে শেষ হবে তিন ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL